Posts

Showing posts from August, 2020

শেলি, পো, জীবনানন্দ, এবং...

Image
পোএর সঙ্গে আমার পরিচয় কিশোর বয়সে। তার ছোটগল্পের মধ্যে দিয়ে। বাংলা অনুবাদে। কি কারণ ছিল জানি না, তবে নাইনে পড়া এক বালকের তার ফ্যানবয় হতে বেশি দেরি হয়নি। পরে বড় হয়ে যখন পো সম্বন্ধে পড়েছি, তখন জেনেছি, তিনি আমেরিকার ছোটগল্পের জনক। শুধু তাই নয়, পরবর্তীকালে মেরি শেলির পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যে গথিক ফিকশনের জন্মও দিয়েছেন তিনি।  কিন্তু এই দুইয়ের বাইরেও যে একজন এডগার অ্যালান পো থেকে গিয়েছেন, সেটা আমি কয়েকবছর আগে পর্যন্ত জানতাম না। এবং সত্যি বলতে, কবিতা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করতে গিয়ে The Poetic Principle হাতে না এলে জানতেও পারতাম না, আমেরিকান কবিদের অন্যতম একজনকে আমি কেবল ছোটগল্প লেখক বলেই জেনে এসেছি এতোদিন। ইংরেজি কবিতার সাথে আমার পরিচয় টেক্সট বইয়ের বাইরে হয়েছিল কোলরিজের কুবলাই খাঁ দিয়ে। পরে অবশ্য বুঝেছিলাম, ব্যাপারটা বৃহৎ স্তরের পেছনপাকামো হয়েছিল। তবে অদ্ভুতভাবে, কোলরিজ, শেলি ও কীটস যেভাবে আমাকে আকৃষ্ট করেছে, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, বায়রন, টেনিসন সেভাবে করেনি কোনদিনই। কেন জানি না।  এদের মধ্যে কোনকারণে শেলির কবিতা অদ্ভুতভাবে সাথে থেকে গেল। খুঁজে খুঁজে পড়ে ফেললাম বেশ কিছু। তখন ঘরে কম্পিউটার ছিল না, ইন্ট...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ সপ্তম অধ্যায়

Image
আমাদের ছুঁয়ে যে রাত মৃত হয়েছে, তাতে জন্ম নিও পুনরায়, এই যে সাদাকালোয় মোড়া চারপাশ, রাত নামলে সেগুলো রঙিন হয়ে ওঠে কোন কোনদিন। জানলা দিয়ে ঢুকে আসে জোনাকিরা। তাদের আলোরা নিজেদের মধ্যে মিশে বিভিন্ন রঙে ভেঙে যায়। সেই রঙিন আকাশের নীচে শুয়ে থাকলে বহুদিন বাদে তুমি আবার ফিরে আসো। যেভাবে ব্যর্থ প্রেমিক ফিরে আসে প্রেমিকার বুকে। তুমি কি? না। তোমার ছায়ারূপ। জোনাকিরা তার পোশাকে রঙিন স্বপ্ন এঁকে দেয়। আমি স্থির হয়ে দেখি। দৃশ্যরা নিজেদের ত্রিমাত্রিক স্তর থেকে পালটে যায়। আমি স্বপ্ন ভেবে জেগে ওঠার চেষ্টা করি। তুমি পাশে এসে বস। আলো আর কুয়াশার মতো পাশাপাশি। বাইরে জ্যোৎস্না এসে তখন লুকোচুরি খেলে তোমার মুখে। কবিতা পোড়ার আগুনে যা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আরো। আরও। জেগে উঠলে আমি সরস্বতী পুজোর প্যান্ডেলের সামনে। সামনে থেকে শাড়ি পড়া বেরিয়ে যাওয়া তুমির দিকে যে আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছি, তাকে দেখে মুখ সরিয়ে নিলাম আমি। এই সরিয়ে নেওয়া চোখে যে আর্তনাদ, তাকে দেখে মনে মনে হাসলাম দূরের আমি। যে জানি, ভালোবাসিকে ভালোবাসি বলতে দ্বিধা করি আজকাল। সম্পর্ক মানে কেবলই শূন্যতা, এই সত্যর থেকে ফিরে থাকি। রেখে যাওয়া জীবনে হাত বোলাই কেবল। স...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ ষষ্ঠ অধ্যায়

Image
 বিকেলের রোদ তখনও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এরকম বিকেলে আমি উদেশ্যহীনভাবে হাঁটতে থাকি IISERএর রাস্তায়। একা রাস্তায় হাঁটতে থাকার মধ্যে অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতা থাকে। কিছুটা ছোঁয়া, কিছুটা না ছোঁয়ায় মেশা। তাকে স্পর্শ করতে গিয়ে দেখি, হাত থেকে আচমকা পড়ে গিয়েছ তুমি। প্রেম। যত্ন করে তুলে ধরতে গেলে আমি উপস্থিত হই লেক্সিসের ঘরে। তিনবছরের তোমার কবিতায় হাসিতে গড়িয়ে পড়া তুমি। তার টুকরোদের প্রাণপণে শুষে নিই। ঠোঁটের ডগা থেকে আলতো করে তুলে আনি বুড়ো আঙুলের ডগায়। আমার চারপাশে সন্ধ্যে বড় উদাস হয়ে ধরা দেয়। IISER এর সন্ধ্যে। সাতনম্বরের একধার ধরে জ্বলে থাকা লাইট। তার পাশ দিয়ে তুমি হেঁটে যাও। তোমরা। আমাদের মনোলগ সলিলকি হয়। আমি আবার ভাঙতে দেখি। নিজেকে। তুমি বোঝ না। বোঝ না বলেই সরস্বতী পুজোর রাতে আমার হাত থেকে শেষবারের মতো নিজের হাতটা যখন টেনে নাও, তখন তোমার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। বুঝলে জানতে, এই ভেঙে যাওয়া থেকে যতটুকু জড়িয়ে নিচ্ছি সেই মুহূর্তে, তার নাম ভালোলাগা, আর যেটুকু জড়ালে না, তাকে বলে আদর। এভাবেই আমাদের গল্প এগোয়। মার্চের রাত্রে আমার ঘরে পুড়ে যায় কবিতারা, তুমি ভালোবাসাতে কানায় কানায় ভরে ওঠো। আমার শেষ ব...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ পঞ্চম অধ্যায়

Image
প্রিয় তোমার গল্প কিকরে লিখি বল তো? বাকি গল্পগুলো আমি সহজেই লিখে ফেলি। কারণ সেগুলোতো আমারও গল্প, আমাদের গল্প। সেগুলো তো আমি জানি। কিন্তু এই গল্প শুধু তোমার। এখানে আমি নেই। তাহলে লিখব কি করে? আচ্ছা আমাদের প্রথম দেখা দিয়ে শুরু করি? তোমাকে আইসারে প্রথম কবে দেখেছিলাম? মনে নেই। মনে থাকবে কি করে? যে গল্প নিখুঁত গদ্য হতে পারত,তাতে এলোমেলো কবিতা আশ্রয় নিলে কি তার আর শুরু শেষ থাকে? ঘটনাপ্রবাহে ভালোবাসার যাপন শুরু হলে কবিতার বইই তার একমাত্র ঠিকানা। নোংরা, হলদে হয়ে আসা, মলাটবিহীন পুরোনো বইয়ের দোকান থেকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া। কবিতার বই। সেই বইয়ের মাঝখান থেকে কিছু লাইন তুলে নিলে দেখতে পাই, তুমি এসে দাঁড়িয়েছ ক্যান্টিনের সামনে। হাওয়ায় উড়ছে তোমার চুল, বিকেলের টুকরো কিছু আলো ব্যর্থ চেষ্টা করছে সেখানে বাসা বাঁধার। বন্ধুদের সাথে হাসি শব্দে মুখরিত তুমি।চারপাশের ব্যস্ততা স্পর্শ করছিল তোমাকে, আর আমাকে তুমি। তোমার অজান্তে চারপাশকে অতিক্রম করে ঘুরতে ঘুরতে আমার মধ্যে ঢুকে পরছিল তারা। সেদিন তোমার হাসি আমার মুগ্ধতাকে সঙ্গী করে ছড়িয়ে পড়েছিল ক্যান্টিনের প্রত্যেকটা কোণে। খাওয়া শেষে ঘরে ফিরে গিয়েছিলে তুমি। ঘরে ফিরেছিলাম ...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ চতুর্থ অধ্যায়

Image
 -“হ্যাঁ বসুন। এই তো, আস্তে আস্তে, হ্যাঁ ঠিক আছে। যাক।” আমি ঘোলাটে চোখে তাকালাম। সামনে ক্রমশ আবছা হয়ে আসা একটি মেয়ের অবয়ব। -“শুনতে পাচ্ছেন তো?" বহুদুর থেকে এক কণ্ঠস্বর ভেসে আসে। আমি ঘাড় নাড়ি। -“এত মদ খান কেন?” আমি হেসে উঠি। যদিও বারের দেওয়ালগুলো ছাড়া আর কেউই শুনতে পায় না।ওরা জানে, মদ আর আমি খাই না। খেতাম। পাস্ট টেন্স। মদ এখন আমায় খায়। -“হ্যাঁ, আপনি যেটা বলছিলেন। বর্তমান পৃথিবীতে নারীমুক্তির ভবিষ্যৎ আসলে দাঁড়িয়ে রয়েছে...” -“বালের উপর।” -“অ্যাঁ?” আমি রিপিট করি। সশব্দে। সামনের কয়েকটা লোক ঘুরে তাকায়। চাপা গলায় মন্তব্য উড়ে আসে, মাতাল শালা। আমি বলতে থাকি। “ জীবনে কখনও ধর্ষণ দেখেছেন?” -“না মানে...” -“দেখেননি। আমি দেখেছি। প্রতি রাতে। প্রতি দিনে। প্রতিটা ঘণ্টায়। প্রতিটা সেকেন্ডে। আপনি দেখেননি, পড়েছেন। জেনেছেন। কভার স্টোরি করেছেন। ফেমিনিজম নিয়ে পাতার পর পাতা লেকচার দিয়ে গেছেন। উলটোটা ভেবেছেন? মানে ভাবার চেষ্টা করেছেন কখনো ? আপনার দিকে দশ সেকেন্ড আমি তাকিয়ে থাকলে আমি চরিত্রহীন। বাসে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আমার শরীর আপনাকে স্পর্শ করলে আমি ধর্ষক। আপনাকে একবারের জায়গায় দুবার মেসেজ করলে আমি খারাপ উ...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ তৃতীয় অধ্যায়

Image
অনেকদিন আগে এক অন্ধকার গিলে নিয়েছিল আমায়। নিস্পন্দ, কালো , শীতল, এক অন্ধকার। আমি থাকতে চাইনি সেখানে। তাই দৌড়োতাম। তার মধ্যেই। প্রতিদিন। প্রতিমুহূর্তে। আর সার্কুলার ট্র্যাকের মতো সব ফিনিশিং লাইনগুলো আবার স্টার্টিং লাইন হয়ে যেত। আমি তাও দৌড়োতাম। বেরিয়ে আসার জন্য। সবাই যেমন দৌড়োয়।অন্ধকার নামক আমিটার থেকে পালানোর জন্য। কিন্তু এইভাবে নিরন্তর দৌড়োতে দৌড়োতে আমরাও মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ি। কোনো একটুকরো আলোর সামনে। এক ছোট্ট ফাটল থেকে চুঁইয়ে পড়া সামান্য, নিস্তেজ, টিমটিমে আলো। কোনোরকমে নিজের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে যে। কিন্তু আমাদের অন্ধকার থেকে পালানোর সুড়ঙ্গের একমাত্র আলো সেই। টানেলের গভীরে হারিয়ে যাওয়া রেললাইনের শেষ ফেলে আসা স্টেশন। খুঁজে পেলে প্রায় নিভে যাওয়া আলোতেও যার নামটা পড়ে নেওয়া যায়। "চন্দননগর" । কোনো এক শীতের সকালে আমি যেখানে নেমেছিলাম। রোববারের সকালের অলসতার জন্য আমার দৌড়ও আমায় বাঁচায়নি। তন্ময় স্যারের রাগী মুখ আমাকে দরজায় আটকে দিয়েছিলো।আমিও সেটাকে পাকা ফরোয়ার্ডের মতো ড্রিবল করে ঢুকে পড়েছিলাম ঘরে। কিন্তু, তৃতীয় বেঞ্চের কর্নারের সিটটা আটকে দিয়েছিলো আমায়। অনেকদিন বাদে রঙীন কিছু দেখছি...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ ২য় অধ্যায়

Image
আজ থেকে অনেকদিন আগে কোন এক ছোট মফস্বলে এক ভিখিরি থাকত। অদ্ভুত এক ভিখিরি সে। কোনোদিন তাকে ভিক্ষে চাইতে দেখিনি। ভিক্ষে না চেয়ে কি ভিখিরি হওয়া যায়! সেও তাই চাইত। কিন্তু টাকা-পয়সা বা খাবার নয়। সে চাইত কিছুটা পেঁজা তুলোর মত সাদা বরফ। মাঝ দুপুরে বা রাতের অন্ধকারে আকাশ থেকে ঝরে পড়া বরফ। লোকে পাগল বলত। কিন্তু ভিখিরিটা আর কোন পাগলামি করত না। কেবল বসে থাকত আর লোক দেখলেই এক জিনিস চাইত । আর ছিল আর এক ছেলে। বড্ড ছেলেমানুষ। মাধ্যমিক পাশ করা সত্তেও যে চুল আঁচড়াতে কেবলি ভুলে যায় , দিনের পর দিন এক জামায় চালিয়ে দেয়। মেয়ে দেখলে মাথা নামিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটে। আর বইএর মধ্যে মুখ গুঁজে দিন কাটায়। একদিন ছেলেটা ভিখিরিকে গিয়ে প্রশ্ন করে। সে এড়িয়ে যায়। ছেলেটা ছাড়ে না। তারপর অনেকদিন বাদে ভিখিরি আস্তে আস্তে বলে তার কথা। বলে ওই তুষারপাত নাকি একজনের জীবনে সবথেকে দরকার। তার জীবনেও একদিন হয়েছিল। কিন্তু সব বরফই তার হাতের ফাঁক দিয়ে গলে পড়ে গেছে। তাই আজও সে সেই বরফগুলো খুঁজে বেড়ায়। এমন হয় নাকি ? ছেলেটার মনের এই প্রশ্নের উত্তরে ভিখিরি হেসেছিল। বলেছিল ‘হয় না। কিন্তু হয়’। কাফকা, নীত্‌শে, ফুকো, দেরিদার মতে না হলেও, হয়। ছেলেট...

মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ ১ম অধ্যায়

Image
একটু আগেই birthday পার্টি শেষ হয়েছে। চারদিকে ইতস্তত ছড়িয়ে আছে ভাঙ্গা শোলার প্লেটের টুকরো, অর্ধেক হয়ে ফেলে দেওয়া ক্যান। লেগে থাকা খাবার টুকরো চাটছে কয়েকটা ঘেয়ো কুকুর. ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে কয়েকজন ছেলে। তাদের উত্তেজিত কথাবার্তার আওয়াজ দূর থেকেও স্পষ্ট... - শালা মোটা এবারেও দশপিসের বেশি মাংস টানলো - বলিস না জুলু, তুইও কিছু কম যাস না. ওর কাছাকাছিই তো টানলি - দেখ একদিনই তো টানি...... - এই তোরা ঝামেলা করা বন্ধ করবি. আর সৌরদীপ একবার শোন... কয়েকটা আনন্দ উজ্জল মুখ ,তাদের ছড়িয়ে পড়া সশব্দ হাসি, টুকরো সংলাপ, রাত্রির নিস্তব্ধতাকে কিছুক্ষণের জন্য ভেঙ্গে দিয়ে যায়. খুশিতে ভরপুর মুখগুলো চলে যাওয়ার আগে বার্তা রেখে যায় 'সামনের বছর আবার আসব।' আস্তে আস্তে বাড়িটা শান্ত হয়ে আসে। একসময় আলোগুলো নিভে যায় .চারপাশের অন্ধকারটা জমাট বাঁধতে থাকে .ধীরে ধীরে বাড়িটা মিশে যায় কবিরাজ গলির অন্ধকারে। শুধু একটুকরো আলোর অস্তিত্ব নিয়ে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে একটা একাকী ল্যাম্পপোস্ট।