মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ সপ্তম অধ্যায়
আমাদের ছুঁয়ে যে রাত মৃত হয়েছে,
তাতে জন্ম নিও পুনরায়,
এই যে সাদাকালোয় মোড়া চারপাশ, রাত নামলে সেগুলো রঙিন হয়ে ওঠে কোন কোনদিন। জানলা দিয়ে ঢুকে আসে জোনাকিরা। তাদের আলোরা নিজেদের মধ্যে মিশে বিভিন্ন রঙে ভেঙে যায়।
সেই রঙিন আকাশের নীচে শুয়ে থাকলে বহুদিন বাদে তুমি আবার ফিরে আসো। যেভাবে ব্যর্থ প্রেমিক ফিরে আসে প্রেমিকার বুকে। তুমি কি? না। তোমার ছায়ারূপ। জোনাকিরা তার পোশাকে রঙিন স্বপ্ন এঁকে দেয়। আমি স্থির হয়ে দেখি।
দৃশ্যরা নিজেদের ত্রিমাত্রিক স্তর থেকে পালটে যায়। আমি স্বপ্ন ভেবে জেগে ওঠার চেষ্টা করি। তুমি পাশে এসে বস। আলো আর কুয়াশার মতো পাশাপাশি।
বাইরে জ্যোৎস্না এসে তখন লুকোচুরি খেলে তোমার মুখে। কবিতা পোড়ার আগুনে যা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আরো। আরও।
জেগে উঠলে আমি সরস্বতী পুজোর প্যান্ডেলের সামনে। সামনে থেকে শাড়ি পড়া বেরিয়ে যাওয়া তুমির দিকে যে আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছি, তাকে দেখে মুখ সরিয়ে নিলাম আমি। এই সরিয়ে নেওয়া চোখে যে আর্তনাদ, তাকে দেখে মনে মনে হাসলাম দূরের আমি। যে জানি, ভালোবাসিকে ভালোবাসি বলতে দ্বিধা করি আজকাল। সম্পর্ক মানে কেবলই শূন্যতা, এই সত্যর থেকে ফিরে থাকি। রেখে যাওয়া জীবনে হাত বোলাই কেবল। স্মৃতির হাত, মায়ার হাত।
কিন্তু সত্যিই কি তাই? তাহলে এই সব আমির বাইরেও একজন যে আমি হেঁটে বেড়াচ্ছি? বাঁকুড়ার বাস ধরার আগে ঢুকে পড়ছি শহরে? মাঝরাতে হাতড়ে চলেছি ফেসবুক প্রোফাইল? বা যে আমি প্রাণপণে কুড়িয়ে নিচ্ছি মুহূর্তের মেঘ, যাপনের দিনলিপি?
আসলে এদের কেউই আমি নই। তাই মুহূর্ত ধরে রাখার কিবোর্ড আর মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মাঝে তোমার মুখ। যথেষ্ট স্পেস নেই। জানলা দিয়ে মাঝেমাঝে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে তোমাকে। এলোমেলো হচ্ছে সাজানো লেখা। নিভে যাচ্ছে অক্ষরের নীচে চাপা পড়া আগুন।
আগুন, নাকি জোনাকি?
এই লেখার পাশে যে একফোঁটা জল পড়ে রয়েছে, তাকে পরম যত্নে মুছে নিল আঙুল। সে জানে পরের শব্দকে ছুঁলে, গড়িয়ে আসবে আরেকটি। তারপরে আরেকজন। এভাবে মুখ খুলে যাবে নদীর। জ্যোৎস্নার। রাত্রির। প্রেমের। ব্যর্থতার।
যার মাঝে এইসব আমিকে ছুঁয়ে শুয়ে রয়েছি আমি। আমাদের প্রেম। মৃত।
মৃত সেই প্রেমে আমাদের ঈশ্বরী হয়ো, ....

Comments
Post a Comment