ব্যর্থতার কুয়াশা
এমনি কোন এক রাতে, একা মানুষের ব্যর্থতা, প্রেমিকার মতো ফিরে ফিরে আসে। কেন বলেছিলাম, আজ আর মনে নিই। নিজেকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই লাইনে সত্য কে? ব্যর্থতার মতো ফিরে ফিরে আসা প্রেমিকা? নাকি প্রেমিকার কাছে বারবার ফিরে আসা ব্যর্থ মানুষ?
কিছু মানুষ ভালোবেসেছিল। কিছু মানুষ জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল তাকে। যারা চেয়েছিল, তাদের কিছু মানুষ ছেড়ে যেতে চেয়েছিল কয়েকদিন পর। গাছের শরীরের খসে পড়া ছালের মতো ভালোবাসারা ঝরে গিয়ে ছড়িয়ে রয়েছিল এদিকওদিক। আর যারা চায়নি, তারা অপেক্ষা করছিল একদিন সব বরফ তুলো হয়ে যাওয়ার জন্য। আপোশোষ। হয়নি।
প্রেমিকার বাড়ানো হাত থেকে শেষ জলবিন্দুটুকু শুষে না নেওয়া পর্যন্ত এ ক্যাম্পাসের ভোরে ছড়িয়ে থেকেছে শিশির। ভোরের আধো অন্ধকার, আধো আলোয়, শহরের ধোঁয়াদের সাথে মিশে আবছা করেছে প্রেমের অবয়ব। মাঝে মাঝে ছুটে যাওয়া বাসেদের সাবধানে পাশ কাটিয়ে মাঝরাস্তায় হাত ধরাধরি করে নেমে এসেছে তারা। উষ্ণতার সান্নিধ্যে শীত কমে এলে, শহরের পথে অকৃত্তিম হাতে ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের।
সময় তাদের ভুলে গেলেও শহর ভোলেনি। ভোলেনি শিশির। যার কোন এক বিন্দুতে এখনও লেখা হয় বাড়ানো হাত আঁকড়ে ধরার দিনলিপি। ভোলেনি আবছা হয়ে যাওয়া পথ, হাঁটতে হাঁটতে যার মাঝখানে এখনও নেমে আসে অসাবধানী মানুষজন। ভোলেনি শীত, নিজেকে সরিয়ে একদিন অন্যের উষ্ণতাকে জায়গা করতে দিয়েছিল যে।
ভোরের কুয়াশা মেখে যে রাস্তা সামনে এসে দাঁড়াল, একদিন তাকে মাড়িয়েই চলে গিয়েছিল কেউ। তবু তার শিশিরে রোদ পড়লে, কেউ হেসে ওঠে। কুয়াশার মেঘ ঘিরে ধরে কাউকে আড়াল করে এখনও। হাওয়া ছুঁয়ে গেলে মনে হয়, আলতো করে জড়িয়ে ধরল কেউ।
এই কুয়াশা, রাস্তা, শিশির, একসাথে শরীর ছুঁলে, একবার কী জড়িয়ে ধরবে? শেষবারের মতো? একবার?
Comments
Post a Comment