Posts

রোদ ১

Image
পৃথিবী বান্ধবহীন, তবু তার কাছেই বার বার ফিরে আসে রোদ... সত্যিই ফিরে আসে কী? পৃথিবীর কথা জানা নেই, তবে একা থাকা মানুষের কাছে ঘুরে বেড়ায় যে মেঘদল, রাত পেরোলে বৃষ্টি নামে তাদের দরজায়। ভোরের দিকে টুপটাপ, জানলায় রাতজাগা চোখ, রোদ আসবে কী? বৃষ্টি নেই, তবু IISERএ রোদের পাশাপাশি বসা হয় না বহুদিন। যদিও তুমি এলে, সকাল নটার ছায়াঘেরা ক্যান্টিনে তারা ঢুকে আসে ধীরপায়ে। তোমার আশেপাশে ঘোরে, ছুঁয়ে থাকে উজ্জ্বল হাসি। কখনও সন্তপর্ণে তাকে সরিয়ে নিলে, ঘরময় ছড়িয়ে পড়ে তারা। বাকিদের ছোঁয় জানি, আমাকেও ছোঁয় কী? রোদেরা ভুললেও, বিকেলে বেরোলে ফুডকোর্টের আশেপাশে তোমার ছায়ারা মিশে থাকে। কিছুক্ষণ আগে ফেলে গেছ যাদের। অথবা RCর পাশের একলা রাস্তা, জমে থাকা জলে যার বুকে লুকোচুরি খেলে সাদা মেঘের দল। সেই মেঘের বুকে জমে থাকে রোদ, যেমন নদীর বুকে নুড়িপাথর। ব্যথার নুড়িপাথর। কান্নার অল্প স্রোত পেলে গড়িয়ে পড়বে এক্ষুনি।  বর্ষা ফুরিয়ে এলে রোদ আর বৃষ্টির সহাবস্থানে হেসে ওঠে যারা, তাদের এড়িয়ে চলি সন্তর্পণে। এড়িয়ে চলি NMR রুমে যাওয়ার রাস্তা, যদি চোখ পড়ে যায়। দশহাত দূরের দূরত্ব অতিক্রম করতে ভয় পাই। যেভাবে শব্দহীন মানুষেরা উল্টোদিকের...

প্রেম কী ও কেন

প্রেম শব্দটা বড়ো অদ্ভুত। আদপে বস্তুটিও। অদ্ভুত বলছি, কারণ, এ এমন জিনিস, যার বাস্তবিক ভিত্তি, এই পৃথিবীতে অন্তত, খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আপনার কাউকে দেখে ভালো লাগলে, তা আদপে বিশুদ্ধ যৌন আকর্ষণ। একসাথে কথা বলতে, সময় কাটাতে ভালো লাগছে, ওরে বন্ধুত্ব কয়। পারস্পরিক সহায়তায় দুজনেই একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠছেন, ওটা যৌথযাপন। একটা সময়ের পরে খুব একটা পোষাচ্ছে না একে অন্যকে, তবুও ছেড়ে যাচ্ছেন না, অবাক হবেন না, প্রেম নয়, একে বলে অভ্যেস। আর শেষ বয়সে এসে, যখন আর কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই, কিন্তু একজনের জন্য অন্যজন রাত জেগে শুশ্রূষা করছেন, চিন্তায় দৌড়াদৌড়ি করছেন, এ হল মায়া।  এবার জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে এর প্রত্যেকটি অনুভূতিই একাধিকবার অনুভব করেন যেকোন মানুষ। সে সুন্দর, বুদ্ধিমান, সপ্রভিত নারী বা পুরুষের প্রতি আকর্ষণই হোক, বা বাড়ির পোষ্যটির বিদায়কালে চোখ ভাঙা জল।  তবে প্রেম আসলে কী? এই সবগুলোর মিলিত ফলাফল? নাকি তার থেকেও বেশি কিছু?  প্রেমের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক, আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, সময় এবং পরিবর্তনশীলতা। যে কারণে মানুষে মানুষে প্রেম হয়, আর মানুষে বস্তুতে নেশা। তা...

অমিতাভ, আপনাকে

Image
কোন লেখক মারা যাওয়ার পরে তাকে নিয়ে কোনদিন একটাও শব্দ লিখিনি। শোক এক প্রবল ব্যক্তিগত অনুভূতি, এই বিশ্বাসেই বেঁচে থাকা এখনও। কেবল শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে নিজেকে সামলানো কঠিন হয়েছিল। যে মানুষ আগেরদিন বিকেলেও গল্প করেছেন, পরদিন ভোরে তার নেই হয়ে যাওয়া, এ সামলানো সত্যিই বড়ো কঠিন। তবে আজকে লিখছি কেন অমিতাভ মৈত্র? লিখছি, কারণ আমার আর আপনার একটা ছোট্ট গল্প আছে। আপনার সাথে কোনদিন দেখা তো দূর, কথাও না হওয়া এক মানুষের। আশ্চর্য, তাই না!  কলেজের থার্ড আর ফোর্থ ইয়ারে আমরা সবাই যখন প্রবল টালমাটালে,  কেরিয়ার, প্রেম, লক্ষ্য, জীবনের সবকিছুকেই মনে হচ্ছে হারিয়ে ফেলছি, প্রশ্ন করছি নিজের অস্তিত্বকেই। এই অবস্থা থেকে পালাতে আমরা কেউ খুঁজেছিলাম গান, কেউ বই, কেউ বা সিনেমা। যে যার কমফোর্ট জোনে। আমি এবং আরো কয়েকজন, নিজেদের খুঁজে পাওয়ার আশায় ফিরে এসেছিলাম বইয়ের কাছে। ততোদিনে স্মরণজিতের সুন্দর প্রেমের গল্প অবাস্তব হয়ে গেছে সবার কাছে। হ্যাঁ, ভালো লেখা অজস্র পড়তাম, সাহিত্যমানে তারা অনেক উন্নত, কিন্তু তাতে আমাদের কথা খুঁজে পেতাম না। আমাদের, এই অজস্র শহর, মফস্বলের গলি থেকে বহুতলের ঝলমলে আলোতে বন্দি হয়ে ...

ব্যর্থতার কুয়াশা

Image
এমনি কোন এক রাতে, একা মানুষের ব্যর্থতা,  প্রেমিকার মতো ফিরে ফিরে আসে। কেন বলেছিলাম, আজ আর মনে নিই। নিজেকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই লাইনে সত্য কে? ব্যর্থতার মতো ফিরে ফিরে আসা প্রেমিকা? নাকি প্রেমিকার কাছে বারবার ফিরে আসা ব্যর্থ মানুষ?  কিছু মানুষ ভালোবেসেছিল। কিছু মানুষ জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল তাকে। যারা চেয়েছিল, তাদের কিছু মানুষ ছেড়ে যেতে চেয়েছিল কয়েকদিন পর। গাছের শরীরের খসে পড়া ছালের মতো ভালোবাসারা ঝরে গিয়ে ছড়িয়ে রয়েছিল এদিকওদিক। আর যারা চায়নি, তারা অপেক্ষা করছিল একদিন সব বরফ তুলো হয়ে যাওয়ার জন্য। আপোশোষ। হয়নি।  প্রেমিকার বাড়ানো হাত থেকে শেষ জলবিন্দুটুকু শুষে না নেওয়া পর্যন্ত এ ক্যাম্পাসের ভোরে ছড়িয়ে থেকেছে শিশির। ভোরের আধো অন্ধকার, আধো আলোয়, শহরের ধোঁয়াদের সাথে মিশে আবছা করেছে প্রেমের অবয়ব।  মাঝে মাঝে ছুটে যাওয়া বাসেদের সাবধানে পাশ কাটিয়ে মাঝরাস্তায় হাত ধরাধরি করে নেমে এসেছে তারা। উষ্ণতার সান্নিধ্যে শীত কমে এলে, শহরের পথে অকৃত্তিম হাতে ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের।  সময় তাদের ভুলে গেলেও শহর ভোলেনি। ভোলেনি শিশির। যার কোন এক বিন্দুতে এখনও লেখা হয় বাড়ানো হাত আঁকড়ে ধরার দিনলিপি। ...

বাউল ও প্রেমিকেরা

Image
 ভুলতে চাইলেই কী ভোলা যায় রে? বলতে বলতে বহুদূরের রাস্তায় মিলিয়ে যাচ্ছে কোন এক বাউল। এমন এক স্বপ্ন রোজ দেখি। ঘুমের মধ্যে, বাইরেও। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সামনে এসে পড়ে সে। আবার বলে, ভুলতে চাইলেই কী... ভুলতে কেন চায় মানুষ? অন্যের উপর বিশ্বাস নেই বলে? বিশ্বাস, নাকি ভরসা? বাউল বলেছিল, ভুলতে আসলে মানুষ নিজেকে চায়। নিজেকে বিশ্বাস করতে না পারা মানুষ। ভয় পেয়ে আটকে যাওয়া, উত্তরের অপেক্ষা  না করে চলে আসা মানুষ।  যদি ভেঙে যায়? অথচ ভাঙতেই তো সে বার বার চেয়েছে সারা জীবন। আমাকে ছুঁয়ে যে রাত জন্ম নিল, তোমার ঘরের বাইরে সে থমকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যে ঘরে আধো আলো, আধো অন্ধকারে শুয়ে রয়েছ। জানলার ফাঁক দিয়ে আসা আলোরা অদ্ভুত নকশা বুনেছে বালিশে ছড়িয়ে থাকা অবিন্যস্ত তোমার উপর। ঘুমের মধ্যে মাঝেমধ্যে অস্পষ্ট কথা বলে ফেলছ। ভোরবেলা ঠান্ডা বাড়লে, নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে জড়িয়ে নিচ্ছ কম্বল।  ভোরের রোদ এসে পড়ল যখন, তখনও তুমি ঘুমিয়ে। আরেকটু বাদেই উঠে পড়বে। তোমাকে ছুঁয়ে থাকা রোদেরা ঘুরে বেড়াবে ঘরের চারিপাশে, চিনে নেবে আনাচকানাচ। বেলা বাড়লে তাদের কেউ যাবে ক্লাসের দিকে, কেউ বা অপেক্ষা করবে ক্যান্টিনের ঠিক বাইরের লনট...

মেঘ, বৃষ্টি, রোদ...

 মেঘ, বৃষ্টি, রোদ, এদের পাশাপাশি বসালে কোন গল্প হয় কী? হয়তো হয় না। কিন্তু আমাদের গল্পে এরা পাশাপাশিই এসে বসেছিল একদিন। জড়িয়ে ধরেছিল দুজনকে। আমাদের গল্পে আমার কোন বৃষ্টি ছিল না। আজীবন অল্পতেই ঠান্ডা লাগা আমি তখন রোদের অপেক্ষায় , বৃষ্টি কেবল তোমারই আপনজন। নিজেকে বাঁচাতে গাড়িবারান্দায় আশ্রয় নেওয়া আমি দেখতাম, কিভাবে মেঘেরা নেমে এসেছে রাস্তায়। সারাশরীরে সেই মেঘ জড়িয়ে আমাকে ডাকতে তুমি। ফুটপাথ থেকে একটু একটু করে এগোনো। তারপর একটা সময় মেঘের ফাঁক থেকে রোদ উঁকি মারলে, রাস্তায় বৃষ্টি আর মেঘ মিশে যেত একে অন্যের মধ্যে।   সেসব দিন পেরিয়ে আমাদের শহর এখন বহুবচন। যদিও তোমার আমার সেই শহরে বৃষ্টি এখনও নামে পাশাপাশি। কখনও তা আমাকে ছোঁয়, কখনও কী তোমাকেও? জানি না। তোমাকে প্রশ্ন করেছি বহুবার। তুমি বলেছ, রোদ্দুরেরা ঘিরে থাকে তোমায়। বৃষ্টি নামবে কী করে? অথচ আমার শরীরে এখন গাছের মতো বৃষ্টি আর রোদ পাশাপাশি খেলা করে। মেঘ নেমে এলে রাস্তা থেকে পালাই না আর। একপশলা বৃষ্টির পরে জামা যখন গায়েই শুকিয়ে আসে কিছুটা, তার থেকে বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ পাই। ভেজা আর শুকনো রঙের তফাতে শরীরে ফুটে ওঠে ভাঙা টবের নক...

শহর ও বৃষ্টি

Image
গুগল দেখাচ্ছে কলকাতা থেকে বসে আছি ৩৩২৬ কিমি দূরে। নতুন জায়গা, নতুন শহর। নতুন বলা ভুল। কারণ সেই শহরে আমি এখনও পা রাখিনি। সেই শহরেই রয়েছি, কিন্তু সেই শহরের সূর্যের আলো এখনও স্পর্শ করেনি আমাকে, আমিও তার নেমে আসা সন্ধ্যেকে ছুঁয়ে দেখিনি। জানিনা, আমার শহরের মতো এখানেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামে কিনা? নাকি ঝুপ করে অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ? যেমন মাঝে আইসারে হতো? হতে পারে। আবার নাও পারে।  আমার চারপাশে দিন রাতের কোন তফাৎ নেই। শুধু দিন রাত কেন, অন্য কোন কিছুরই। কম্পিউটার জানাচ্ছে এখন বাইরের উষ্ণতা ২২, বৃষ্টি হতে পারে। বা হচ্ছেও। সে জানালে বুঝি দিন শেষ হয়ে রাত নামছে, বা রাত কেটে গিয়ে সকাল।  সে এও জানায় আমার শহর আজকে মেঘলা। কাল বৃষ্টি নামতে পারে তার গা জড়িয়ে। যে বৃষ্টি নামলে, শহরের পথঘাটমাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। প্রাণপণে সাইকেল নিয়ে স্টেশন থেকে বাড়ির পথে দৌড়োব আমি। পিঠে কলেজস্ট্রিট থেকে কেনা ব্যাগভর্তি বই। যদি ভিজে যায়?  বৃষ্টিতে তোমার বারান্দায় জল আসে। কাকিমা যে গাছ লাগিয়েছিলেন, তাতে ফোটা ফুলের পাতায় ছাপ রেখে যায় তারা। তোমার পাঠানো ছবিতে দেখেছিলাম। দেখেছিলাম, ওই জলের পাশাপাশি, দুফোঁটা কান্নার ...