শহর ও বৃষ্টি
গুগল দেখাচ্ছে কলকাতা থেকে বসে আছি ৩৩২৬ কিমি দূরে। নতুন জায়গা, নতুন শহর।
নতুন বলা ভুল। কারণ সেই শহরে আমি এখনও পা রাখিনি। সেই শহরেই রয়েছি, কিন্তু সেই শহরের সূর্যের আলো এখনও স্পর্শ করেনি আমাকে, আমিও তার নেমে আসা সন্ধ্যেকে ছুঁয়ে দেখিনি। জানিনা, আমার শহরের মতো এখানেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামে কিনা? নাকি ঝুপ করে অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ? যেমন মাঝে আইসারে হতো? হতে পারে। আবার নাও পারে।
আমার চারপাশে দিন রাতের কোন তফাৎ নেই। শুধু দিন রাত কেন, অন্য কোন কিছুরই। কম্পিউটার জানাচ্ছে এখন বাইরের উষ্ণতা ২২, বৃষ্টি হতে পারে। বা হচ্ছেও। সে জানালে বুঝি দিন শেষ হয়ে রাত নামছে, বা রাত কেটে গিয়ে সকাল।
সে এও জানায় আমার শহর আজকে মেঘলা। কাল বৃষ্টি নামতে পারে তার গা জড়িয়ে। যে বৃষ্টি নামলে, শহরের পথঘাটমাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। প্রাণপণে সাইকেল নিয়ে স্টেশন থেকে বাড়ির পথে দৌড়োব আমি। পিঠে কলেজস্ট্রিট থেকে কেনা ব্যাগভর্তি বই। যদি ভিজে যায়?
বৃষ্টিতে তোমার বারান্দায় জল আসে। কাকিমা যে গাছ লাগিয়েছিলেন, তাতে ফোটা ফুলের পাতায় ছাপ রেখে যায় তারা। তোমার পাঠানো ছবিতে দেখেছিলাম। দেখেছিলাম, ওই জলের পাশাপাশি, দুফোঁটা কান্নার দাগ তাতে মিশে আছে। যেন চলে যাবে বলে অযথা যন্ত্রণাতে নিজের দাগ রেখে গেছে কেউ।
তোমার কাছে নিজের শহর রেখে এসেছি আমি। তাই কালকে কাজের ফাঁকে তোমার যখন মনখারাপ হবে, তখন গোটা শহর কালো মেঘে ঢাকা। সন্ধ্যের আগেই অন্ধকার হয়ে যাওয়া ঘরে ধুলোঝড় আলতো করে ছুঁয়ে যাবে তোমাকে। জানলা বন্ধ করতে করতে দেখবে, শহরের বুকে আমাদের যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে নেমে আসছে অজস্র জলের ফোঁটা।
বৃষ্টি, তুমি নামবে তো?
Comments
Post a Comment