মেঘ, বৃষ্টি, রোদ...

 মেঘ, বৃষ্টি, রোদ, এদের পাশাপাশি বসালে কোন গল্প হয় কী? হয়তো হয় না। কিন্তু আমাদের গল্পে এরা পাশাপাশিই এসে বসেছিল একদিন। জড়িয়ে ধরেছিল দুজনকে।

আমাদের গল্পে আমার কোন বৃষ্টি ছিল না। আজীবন অল্পতেই ঠান্ডা লাগা আমি তখন রোদের অপেক্ষায় , বৃষ্টি কেবল তোমারই আপনজন। নিজেকে বাঁচাতে গাড়িবারান্দায় আশ্রয় নেওয়া আমি দেখতাম, কিভাবে মেঘেরা নেমে এসেছে রাস্তায়। সারাশরীরে সেই মেঘ জড়িয়ে আমাকে ডাকতে তুমি। ফুটপাথ থেকে একটু একটু করে এগোনো। তারপর একটা সময় মেঘের ফাঁক থেকে রোদ উঁকি মারলে, রাস্তায় বৃষ্টি আর মেঘ মিশে যেত একে অন্যের মধ্যে।  

সেসব দিন পেরিয়ে আমাদের শহর এখন বহুবচন। যদিও তোমার আমার সেই শহরে বৃষ্টি এখনও নামে পাশাপাশি। কখনও তা আমাকে ছোঁয়, কখনও কী তোমাকেও? জানি না। তোমাকে প্রশ্ন করেছি বহুবার। তুমি বলেছ, রোদ্দুরেরা ঘিরে থাকে তোমায়। বৃষ্টি নামবে কী করে?

অথচ আমার শরীরে এখন গাছের মতো বৃষ্টি আর রোদ পাশাপাশি খেলা করে। মেঘ নেমে এলে রাস্তা থেকে পালাই না আর। একপশলা বৃষ্টির পরে জামা যখন গায়েই শুকিয়ে আসে কিছুটা, তার থেকে বৃষ্টিভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ পাই। ভেজা আর শুকনো রঙের তফাতে শরীরে ফুটে ওঠে ভাঙা টবের নকশারা, যেন কোনো গাছ এখনই শেকড় মিলবে, বাড়িয়ে ধরবে নিজেকে। 

বৃষ্টির শুরুতে পথঘাট থেকে সরে গিয়েছিল যারা, রোদ ফিরে আসতে একে একে রাস্তায় তাদের পা। মেঘের ছায়া কখনও তাদের ঢেকে দিচ্ছে, পরমুহূর্তে উজ্জ্বল আলোয় ভরে উঠছে তাদের শরীর। ভিজে থাকা গাছের ডালপালার ফাঁকে লুকিয়ে ছিল যে জল, ঝরে পড়ার আগে প্রাণপণে শুষে নিচ্ছে চারপাশ। শেষ ফোঁটাটি ঝরে পড়ল যখন, মাটিতে মিশে যাওয়ার আগে সবাই দেখেছিল, তাতে লেগে রয়েছে সূর্যের হাসিমুখ।

বহুতলে প্রেমিকের উষ্ণ আলিঙ্গনে যখন তুমি ধরা পড়ছ, সেই রাতে শহরের বুকে বৃষ্টিকে সঙ্গী করে আমি আরেকবার রাস্তায়। ঝাপসা চশমায়  গাড়ির হেডলাইট নানারকম নকশা কাটছে। তার ফাঁক দিয়েই দেখছি, ফুটপাথের অন্যদিকে এসে দাঁড়িয়েছ আগের তুমি। রাতের শহরে রোদকে হারিয়ে তোমার শরীর পুনরায় দখল করেছে বৃষ্টি। ভিজে ওঠা রাস্তায় তোমার পায়েরা এগিয়ে আসছে আমার দিকে। ফুটপাথে থেকে রাস্তায় নামলেই আগের মতো মুখোমুখি এসে দাঁড়াব আমরা। আর বাকি দিনের মতো তারপর...

তোমাকে ভেবে শূন্যতাকে জড়িয়ে ধরছি কতকাল...



Comments

Popular posts from this blog

প্রেমিক, প্রেম ও প্রেমিকারা

ব্যর্থতার কুয়াশা