মধ্যরাতের অর্ধপ্রলাপ ষষ্ঠ অধ্যায়
বিকেলের রোদ তখনও গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
এরকম বিকেলে আমি উদেশ্যহীনভাবে হাঁটতে থাকি IISERএর রাস্তায়। একা রাস্তায় হাঁটতে থাকার মধ্যে অদ্ভুত একটা বিষণ্ণতা থাকে। কিছুটা ছোঁয়া, কিছুটা না ছোঁয়ায় মেশা। তাকে স্পর্শ করতে গিয়ে দেখি, হাত থেকে আচমকা পড়ে গিয়েছ তুমি। প্রেম।
যত্ন করে তুলে ধরতে গেলে আমি উপস্থিত হই লেক্সিসের ঘরে। তিনবছরের তোমার কবিতায় হাসিতে গড়িয়ে পড়া তুমি। তার টুকরোদের প্রাণপণে শুষে নিই। ঠোঁটের ডগা থেকে আলতো করে তুলে আনি বুড়ো আঙুলের ডগায়।
আমার চারপাশে সন্ধ্যে বড় উদাস হয়ে ধরা দেয়। IISER এর সন্ধ্যে। সাতনম্বরের একধার ধরে জ্বলে থাকা লাইট। তার পাশ দিয়ে তুমি হেঁটে যাও। তোমরা। আমাদের মনোলগ সলিলকি হয়। আমি আবার ভাঙতে দেখি। নিজেকে।
তুমি বোঝ না। বোঝ না বলেই সরস্বতী পুজোর রাতে আমার হাত থেকে শেষবারের মতো নিজের হাতটা যখন টেনে নাও, তখন তোমার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। বুঝলে জানতে, এই ভেঙে যাওয়া থেকে যতটুকু জড়িয়ে নিচ্ছি সেই মুহূর্তে, তার নাম ভালোলাগা, আর যেটুকু জড়ালে না, তাকে বলে আদর।
এভাবেই আমাদের গল্প এগোয়। মার্চের রাত্রে আমার ঘরে পুড়ে যায় কবিতারা, তুমি ভালোবাসাতে কানায় কানায় ভরে ওঠো। আমার শেষ বেঁচে থাকাটুকু বোঝায় আমাকে, এ আসলে না ভুলতে পারা দুঃখের সুখ। কয়েকফুটের নীল রঙের পৃথিবী, বেরোতে বেরোতে আমাকে শেখায়, এর থেকে যেটুকু থেকে যাবে, সেটুকু মায়া, বাকিটা অতীত।
সেই মায়া, যার টানে আমাদের সব গল্পরাই বান্ধবীকেন্দ্রিক। যাকে বুকে জড়িয়ে পেরিয়ে যাই একের পর এক নাটক। নাটক শেষ হয়, আমি ভেতরে আরো একটু ভাঙি। ভাঙতে ভাঙতে নিজেকে বিশ্বাস করাই, এভাবেই হয়। এভাবেই হবে।
আদপে তোমাকে বলা প্রত্যেকটা শব্দ আমার কীবোর্ডের ব্যাকস্পেসে আটকে আছে। একবার ভুলে গেলেই চলকে পড়বে।
ভুলতে কতটা প্রয়োজন, দেবমাল্য? ৩০০ এমএল। আমি জানি এখন।
শেষ না হয়ে যাওয়া যে গানে তুমি রাত হয়ে যাও, তার হাত ধরে আমি এই তিনটের সময় অ্যাকাডের ছাদে। চারদিক থেকে গলে গলে পড়ছে গতকালের দৃশ্যরা। আমি চুপচাপ বসে রয়েছি। অন্ধকারেও হলুদ হয়ে আসছে তারা। ফুরিয়ে যাওয়ার রং যে হলুদ, সেটাও যে আমি জানি এখন।
ছাদ থেকে নেমে আসি। অ্যাকাড বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে একটু হাঁটতেই বুঝতে পারি, পথ শেষ।
সেই শেষেই দাঁড়িয়ে রয়েছি। ভুলে যাওয়া থেকে ক্রমশ মনে পড়ছে, পথ শেষ হলে নতুন করে পথ করে নিতে হয়। কিন্তু থেমে থাকা যায় না। কারণ...
কিভাবে শেষ, কবে শেষ, এটুকু ভেবেই তো এতো যাওয়া আসা...
আজ থেকে আমার গল্প শেষ হল। দেড়বছর আগের মানুষটায় আমি আবার ফিরে যাব কাল থেকে। গল্পটার বাকিটা আর লেখা হবে না। কারণ, মৃতদেহ গল্প লেখে না। লিখত পারে না।সে শুধু চায়,
"আমার মৃতদেহের উপর প্রজাপতিদের শহর গড়ে উঠুক"

Comments
Post a Comment